রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত ১০ পয়েন্টে ব্যাখ্যা

SATYAM NEWS

১) রাশিয়া এবং ইউক্রেনের (একটি সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র) মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল, ২০২১ সালের শুরুরদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে শুরু করে। গত বছরের জানুয়ারিতে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউক্রেনকে ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে অনুরোধ করেছিলেন।

২) এই ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি রাশিয়াকে ক্ষুব্ধ করে, গত বছর বসন্তে “প্রশিক্ষণ অনুশীলনের” জন্য রাশিয়া ইউক্রেন সীমান্তের কাছে সৈন্য পাঠাতে শুরু করে এবং শরৎকালে তা আরো বাড়িয়ে দেওয়া হয়। ডিসেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ান সৈন্য মোতায়েনের কথা জানতে পারে এবং প্রেসিডেন্ট বিডেন জানান রাশিয়া যদি ইউক্রেন আক্রমণ করে তবে কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেন।

৩) রাশিয়া দাবি করে যে পশ্চিম একটি আইনত বাধ্যতামূলক গ্যারান্টি দেয় যে ন্যাটো পূর্ব ইউরোপ এবং ইউক্রেনে কোনও সামরিক তৎপরতা করবে না। ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছেন যে ইউক্রেন পশ্চিমের পুতুল এবং এটি কখনই একটি সঠিক রাষ্ট্র নয়।

৪) রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে উত্তেজনা এই প্রথমবার নয়। রাশিয়া ২০১৪ সালে ইউক্রেন আক্রমণ করেছিল যখন রাষ্ট্রপতি পুতিনের সমর্থনপুষ্ট বিদ্রোহীরা পূর্ব ইউক্রেনের বিশাল অংশ দখল করেছিল এবং তখন থেকেই ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর সাথে লড়াই করে চলেছে।

৫) প্রাক্তন সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র হিসাবে ইউক্রেনের রাশিয়ার সাথে এক গভীর সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে এবং সেখানে রাশিয়ান ভাষা ব্যাপকভাবে বলা হয়, কিন্তু রাশিয়া ২০১৪ সালে আক্রমণ করার পর থেকে সেই সম্পর্কে ভাঙ্গন ধরে।

৬) ২০১৪ সালের গোড়ার দিকে যখন রাশিয়াপন্থী রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল তখন রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ করেছিল। পূর্বে যুদ্ধের পর থেকে ১৪,০০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছে।

৭) ডনবাস অঞ্চল সহ পূর্ব ইউক্রেনে সশস্ত্র সংঘাত থামাতে মিনস্ক শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল রাশিয়া ও ইউক্রেন। তবে সংঘাত অব্যাহত থাকায় রাশিয়া সেই অঞ্চলে “শান্তিরক্ষী” পাঠাচ্ছে বলে জানিয়েছিল যেখানে সংঘর্ষ চলছে। পশ্চিমারা একে মস্কো কর্তৃক সার্বভৌম ভূখণ্ড দখলের একটি স্মোকস্ক্রিন বলে।

৮) রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে এই নতুন উত্তেজনা ছড়ায় কারণ তারা ন্যাটো মেম্বারশিপ চেয়েছিলো৷ন্যাটো স্বাক্ষরকারী অধিকাংশ দেশই রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যোগ দিয়েছে।

৯) কয়েক সপ্তাহ আগে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ উত্তেজনা কমাতে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে কথা বলতে মস্কোতে উড়ে গিয়েছিলেন ।

১০) রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে বর্তমান সঙ্কট থেকে কূটনৈতিক উপায় বের করার আহ্বান জানিয়েছে ভারত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *